
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সরকারি ঋণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪০.৭৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ অর্থনীতির আকারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক কম। তবে ঋণের বোঝা মূল্যায়নে মোট ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি জিডিপির অনুপাতে ঋণের হারও বিবেচনা করা জরুরি।
মোট ঋণের পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্র সবার ওপরে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের প্রক্ষেপণভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মোট সরকারি ঋণের পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন এবং তৃতীয় অবস্থানে জাপান।
দেশভিত্তিক মোট সরকারি ঋণের একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
- যুক্তরাষ্ট্র: প্রায় ৪০.৭৪ ট্রিলিয়ন ডলার
- চীন: প্রায় ২২.২৯ ট্রিলিয়ন ডলার
- জাপান: প্রায় ৮.৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার
- যুক্তরাজ্য: প্রায় ৪.৪২ ট্রিলিয়ন ডলার
এসব পরিসংখ্যান ২০২৬ সালের প্রক্ষেপণভিত্তিক হিসাব; এগুলোকে চূড়ান্ত নিরীক্ষিত হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
জিডিপির অনুপাতে ঋণের চিত্র ভিন্ন
কোনো দেশের মোট ঋণ বেশি হলেই সেই দেশের অর্থনীতির ওপর ঋণের চাপ সবচেয়ে বেশি—এমনটি নয়। এ ক্ষেত্রে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত গুরুত্বপূর্ণ।
আইএমএফের ২০২৬ সালের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪১.৮ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ১২৫.৮ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্থনীতির আকারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের অনুপাত বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি।
তবে জিডিপির অনুপাতে ঋণের হিসাব দিয়ে এককভাবে কোনো দেশের আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না। সরকারের রাজস্ব আয়, সুদ পরিশোধের ব্যয়, ঋণের মেয়াদ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ঋণ নেওয়ার শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
বাংলাদেশের অবস্থান নির্দিষ্ট করে বলতে হলে একই সংজ্ঞা, একই বছরের তথ্য এবং একই ধরনের সরকারি ঋণের হিসাব ধরে আন্তর্জাতিক তালিকা যাচাই করা প্রয়োজন। মোট ঋণের পরিমাণের তালিকা এবং জিডিপির অনুপাতে ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এক হবে না।
আইএমএফের বাংলাদেশের জন্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সরকারি খাতের মোট ঋণ ছিল জিডিপির ৪২.১ শতাংশ। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য এ হার ৪২.৪ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল।
সুতরাং, বাংলাদেশের ঋণের অবস্থান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু মোট ঋণের অঙ্ক নয়, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং দেশের অর্থনীতির তুলনায় ঋণের বোঝা কতটা; সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক এবং ২০২৬ সালের সরকারি ঋণসংক্রান্ত প্রক্ষেপণ।








































