back to top
Home প্রচ্ছদ ডেঙ্গুর ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৭২

ডেঙ্গুর ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৭২

ডেঙ্গুর ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৭২ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার উৎস ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং দুর্বলতা। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে পারে। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জ্বর কমে যাওয়ার পরও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না। জ্বর কমার সময়েই অনেক রোগীর রক্তচাপ কমে যাওয়া, রক্তক্ষরণ বা শরীরে পানি জমার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে ডেঙ্গু রোগীদের পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।

 

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর জোর দিয়েছেন। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ-সরঞ্জামের প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা নয়, একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনগণের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here